রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে!
কেন নয়নের জল ঝরিছে বিফল নয়নে!
এ বেশভূষণ লহো সখী, লহো—
এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ,
এমন যামিনী কাটিল বিরহশয়নে ৷
আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে ৷ ৷
আমি বৃথা অভিসারে এ যমুনাপারে এসেছি ৷
বহি বৃথা মনোআশা এত ভালোবাসা বেসেছি ৷
শেষে নিশিশেষে বদন মলিন,
ক্লান্ত চরণ, মন উদাসীন,
ফিরিয়া চলেছি কোন সুখহীন ভবনে!
হায়, যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে ৷ ৷
কত উঠেছিল চাঁদ নিশীথ-অগাধ আকাশে ৷
বনে দুলেছিল ফুল গন্ধব্যাকুল বাতাসে ৷
তরুমর্মর নদীকলতান
কানে লেগেছিল স্বপ্ন-সমান,
দূর হতে আসি পশেছিল গান শ্রবণে ৷
আজি যে রজনী যায়, ফিরাইব তায় কেমনে ৷ ৷
মনে লেগেছিল হেন, আমারে সে যেন ডেকেছে ৷
যেন চিরযুগ ধরে মোরে মনে করে রেখেছে ৷
সে আনিবে বহি ভরা অনুরাগ,
যৌবননদী করিবে সজাগ,
আসিবে নিশীথে, বাঁধিবে সোহাগ-বাঁধনে ৷
আহা, সে রজনী যায়, ফিরাইব তায় কেমনে ৷ ৷
ওগো, ভোলা ভালো তবে, কাঁদিয়া কী হবে মিছে আর?
যদি যেতে হল হায়, প্রাণ কেন চায় পিছে আর?
কুঞ্জদুয়ারে অবোধের মতো
রজনী প্রভাতে বসে রব কত!
এবারের মতো বসন্ত গত জীবনে ৷
হায়, যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে ৷ ৷
১৬ আষাঢ় ১৩০০
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন