রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভাঙা অতিথশালা ৷
ফাটা ভিতে অশথ-বটে মেলেছে ডালপালা ৷
প্রখর রোদে তপ্ত পথে কেটেছে দিন কোনোমতে—
মনে ছিল সন্ধ্যাবেলায় মিলবে হেথা ঠাঁই ৷
মাঠের ’পরে আঁধার নামে, হাটের লোকে ফিরল গ্রামে,
হেথায় এসে চেয়ে দেখি— নাই যে কেহ নাই ৷
কত কালে কত লোকে কত দিনের শেষে
ধুয়েছিল পথের ধুলা এইখানেতে এসে ৷
বসেছিল জ্যোৎস্নারাতে স্নিগ্ধ শীতল আঙিনাতে
কয়েছিল সবাই মিলে নানা দেশের কথা ৷
প্রভাত হলে পাখির গানে জেগেছিল নূতন প্রাণে
দুলেছিল ফুলের ভারে পথের তরুলতা ৷
আমি যেদিন এলেম সেদিন দীপ জ্বলে না ঘরে,
বহুদিনের শিখার কালি আঁকা ভিতের ’পরে ৷
শুষ্কজলা দিঘির পাড়ে জোনাক ফিরে ঝোপে-ঝাড়ে,
ভাঙা পথে বাঁশের শাখা ফেলে ভয়ের ছায়া ৷
আমার দিনের যাত্রাশেষে কার অতিথি হলেম এসে!
হায় রে বিজন দীর্ঘ রাত্রি, হায় রে ক্লান্ত কায়া ৷ ৷
৮ বৈশাখ ১৩১৩
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন