রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আসিল দিয়াড়ি হাতে রাজার ঝিয়ারি ৷
খিড়কির আঙিনায়, নামটি পিয়ারি ৷
আমি শুধালেম তারে, ‘এসেছ কী লাগি?’
সে কহিল চুপে চুপে, ‘কিছু নাহি মাগি ৷
আমি চাই ভালো ক’রে চিনে রাখো মোরে,
আমার এ আলোটিতে মন লহো ভরে ৷
আমি যে তোমার দ্বারে করি আসা-যাওয়া,
তাই হেথা বকুলের বনে দেয় হাওয়া ৷
যখন ফুটিয়া ওঠে যূথী বনময়,
আমার আঁচলে আনি তার পরিচয় ৷
যেথা যত ফুল আছে বনে বনে ফোটে,
আমার পরশ পেলে খুশি হয়ে ওঠে ৷
শুকতারা ওঠে ভোরে, তুমি থাকো একা,
আমিই দেখাই তারে ঠিকমত দেখা ৷
যখনি আমার শোনে নূপুরের ধ্বনি
ঘাসে ঘাসে শিহরন জাগে যে তখনি ৷
তোমার বাগানে সাজে ফুলের কেয়ারি,
কানাকানি করে তারা ‘এসেছে পিয়ারি’ ৷
অরুণের আভা লাগে সকালের মেঘে,
‘এসেছে পিয়ারি’ ব’লে বন ওঠে জেগে ৷
পূর্ণিমারাতে আসে ফাগুনের দোল,
‘পিয়ারি পিয়ারি’ রবে ওঠে উতরোল ৷
আমের মুকুলে হাওয়া মেতে ওঠে গ্রামে,
চারি দিকে বাঁশি বাজে পিয়ারির নামে ৷
শরতে ভরিয়া উঠে যমুনার বারি,
কূলে কূলে গেয়ে চলে ‘পিয়ারি পিয়ারি’ ৷’
শান্তিনিকেতন
৩ মার্চ ১৯৪১ [:১৯ ফাল্গুন ১৩৪৭:]
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন