রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তোমার শঙ্খ ধুলায় প’ড়ে, কেমন করে সইব!
বাতাস আলো গেল মরে, একি রে দুর্দৈব!
লড়বি কে আয় ধ্বজা বেয়ে, গান আছে যার ওঠ-না গেয়ে,
চলবি যারা চল রে ধেয়ে— আয়-না রে নিঃশঙ্ক ৷
ধুলায় পড়ে রইল চেয়ে ওই-যে অভয় শঙ্খ ৷ ৷
চলেছিলেম পূজার ঘরে সাজিয়ে ফুলের অর্ঘ্য
খুঁজি সারা দিনের পরে কোথায় শান্তিস্বর্গ ৷
এবার আমার হৃদয়ক্ষত ভেবেছিলেম হবে গত,
ধুয়ে মলিন চিহ্ন যত হব নিষ্কলঙ্ক ৷
পথে দেখি ধুলায় নত তোমার মহাশঙ্খ ৷ ৷
আরতিদীপ এই কি জ্বালা, এই কি আমার সন্ধ্যা?
গাঁথব রক্তজবার মালা? হায় রজনীগন্ধা!
ভেবেছিলেম যোঝাযুঝি মিটিয়ে পাব বিরাম খুঁজি,
চুকিয়ে দিয়ে ঋণের পুঁজি লব তোমার অঙ্ক ৷
হেনকালে ডাকল বুঝি নীরব তব শঙ্খ ৷ ৷
যৌবনেরই পরশমণি করাও তবে স্পর্শ ৷
দীপক তানে উঠুক ধ্বনি দীপ্ত প্রাণের হর্ষ ৷
নিশার বক্ষ বিদার ক’রে উদবোধনে গগন ভ’রে
অন্ধ দিকে দিগন্তরে জাগাও-না আতঙ্ক ৷
দুই হাতে আজ তুলব ধরে তোমার জয়শঙ্খ ৷ ৷
জানি জানি তন্দ্রা মম রইবে না আর চক্ষে ৷
জানি শ্রাবণ-ধারা-সম বাণ বাজিবে বক্ষে ৷
কেউ-বা ছুটে আসবে পাশে, কাঁদবে বা কেউ দীর্ঘশ্বাসে,
দুঃস্বপনে কাঁপবে ত্রাসে সুপ্তির পর্যঙ্ক ৷
বাজবে যে আজ মহোল্লাসে তোমার মহাশঙ্খ ৷ ৷
তোমার কাছে আরাম চেয়ে পেলেম শুধু লজ্জা ৷
এবার সকল অঙ্গ ছেয়ে পরাও রণসজ্জা ৷
ব্যাঘাত আসুক নব নব— আঘাত খেয়ে অচল রব,
বক্ষে আমার দুঃখে তব বাজবে জয়ডঙ্ক ৷
দেব সকল শক্তি, লব অভয় তব শঙ্খ ৷ ৷
রামগড়
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৩২১
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন